মেয়েদের চুল পড়া ও ঝরে যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

চুল একজন নারীর সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই হঠাৎ চুল বেশি ঝরে পড়া, চিরুনিতে গোছা গোছা চুল ওঠা কিংবা মাথার চুল ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে যাওয়া অনেক নারীর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। 

চুলের-যত্নে-কিছু-টিপস

সাধারণভাবে একজন মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়তে পারে। তবে এর চেয়ে অনেক বেশি চুল পড়া, মাথার নির্দিষ্ট অংশ পাতলা হয়ে যাওয়া বা সিঁথি ক্রমশ চওড়া হওয়া স্বাভাবিক চুল ঝরার অংশ নয়। তাই চুল পড়া বন্ধ করার আগে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পোস্টের সূচিপত্রঃ মেয়েদের চুল পড়া ও ঝরা যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

মেয়েদের চুল পড়ার প্রধান কারণ

চুল পড়া শুরু হলে অনেকেই প্রথমে শ্যাম্পু, তেল বা বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু সব ধরনের চুল পড়ার চিকিৎসা একই নয়। যেমন বংশগত কারণে চুল পাতলা হলে এক ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে, আবার শরীরে কোনো পুষ্টির ঘাটতি থাকলে সেই ঘাটতি পূরণ করাই মূল বিষয়। নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে মাথার মাঝখানের সিঁথি চওড়া হয়ে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে মাথার ওপরের অংশ পাতলা হওয়া নারী-নির্দিষ্ট বংশগত চুল পড়ার লক্ষণ হতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, জ্বর বা বড় ধরনের অসুস্থতার পর সাময়িকভাবে চুল বেশি পড়তে পারে। সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক মাস পরও অনেক নারীর চুল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝরে যায়। দ্রুত ওজন কমানো এবং আয়রনের ঘাটতিও চুল পড়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। চুল পড়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেওয়া হলো-

  • বংশগত চুল পড়া

  • আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ

  • দ্রুত ওজন কমানো

  • হরমোনের পরিবর্তন

  • সন্তান জন্মের পরের সময়

  • থাইরয়েড বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা

  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • মাথার ত্বকের সমস্যা বা সংক্রমণ

  • অতিরিক্ত টান দিয়ে চুল বাঁধা

  • অতিরিক্ত হিট, রং বা রাসায়নিক ব্যবহার

খাবারের মাধ্যমে চুল পড়া কমানোর উপায়

চুলের সুস্থতার জন্য শরীরের পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও সুষম খাদ্য না খেলে শরীরের অন্যান্য অংশের মতো চুলের বৃদ্ধিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চুল পড়া কমানোর জন্য শুধু বাইরে থেকে তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার না করে প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া দরকার।

খাবারের তালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, বাদাম ও বীজের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখতে পারেন। তবে শুধু চুল পড়ছে বলে নিজের ইচ্ছায় বেশি মাত্রায় ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। কিছু পুষ্টি অতিরিক্ত গ্রহণ করলেও উল্টো চুল পড়া বাড়তে পারে। চুল পড়া নিরাময় করতে পারে এমন কিছু খাবার-

  • ডিম ও মাছের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

  • ডাল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিন

  • শাকসবজি

  • মৌসুমি ফল

  • বাদাম ও বীজ

  • দুধ

  • পর্যাপ্ত পানি

  • প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রনসমৃদ্ধ খাবার

 বিশেষ করে মনে রাখবেন, রক্তে কোনো পুষ্টির ঘাটতি আছে কি না, তা না জেনে নিজের ইচ্ছায় আয়রন, বায়োটিন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

চুল ধোয়ার সঠিক নিয়ম ও শ্যাম্পু নির্বাচন

অনেক নারী চুল পড়ার ভয়ে শ্যাম্পু করা কমিয়ে দেন। কিন্তু চুল পড়ার প্রকৃত কারণ না জেনে শ্যাম্পু কমিয়ে দেওয়া সাধারণত সমস্যার সমাধান করে না। বরং চুল ও মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোমল শ্যাম্পু ব্যবহার করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখা ভালো। চুল পাতলা হয়ে গেলে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করে সাবধানে চুল ধোয়া উচিত।

আরো পড়ুনঃ মেয়েদের উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর ত্বক ধরে রাখার উপায়

শ্যাম্পু করার পর ভালো মানের ময়েশ্চারাইজিং কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুলের গোড়া নয়, চুলের দৈর্ঘ্য ও আগার শুষ্কতা এবং ভাঙা কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে লিভ-ইন কন্ডিশনার বা ডিট্যাংলার ব্যবহার করা যায়। তবে কোনো শ্যাম্পু চুল পড়ার সব কারণ দূর করতে পারে, এমনটা নয়। চুল ধোয়ার সময় খেয়াল রাখবেন-

  • খুব শক্তভাবে মাথার ত্বক ঘষবেন না

  • কোমল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

  • প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন

  • ভেজা চুল জোরে আঁচড়াবেন না

  • তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষে শুকাবেন না

  • অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন

তেল, হিট ও রাসায়নিক ব্যবহারে সতর্কতা

চুলে তেল ব্যবহার করা অনেকের চুলের শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমাতে পারে। তবে তেল লাগালেই চুল পড়ার মূল কারণ দূর হয়ে যাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই চুল পড়ার কারণ যদি হরমোন, বংশগত সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি বা কোনো রোগের সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শুধু তেল ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

একইভাবে হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার, কার্লার এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হতে পারে। চুলের ওপর অতিরিক্ত টানও ক্ষতির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে খুব টাইট পনিটেল, খোঁপা বা অন্য কোনো টানযুক্ত হেয়ারস্টাইল ব্যবহার করলে স্থায়ী ধরনের চুল পড়ার কারন হতে পারে। 

মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি

অনেক সময় মানসিক চাপের পর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়তে দেখা যায়। একইভাবে বড় ধরনের অসুস্থতা, অস্ত্রোপচার, উচ্চ জ্বর বা শরীরের ওপর বড় ধরনের চাপের কয়েক মাস পর চুল ঝরার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক হতে পারে এবং মূল কারণের উন্নতি হলে চুল আবার বাড়তে শুরু করতে পারে।

তাই চুল পড়া শুরু হলে শুধু চুল নিয়ে চিন্তা না করে নিজের সামগ্রিক জীবনযাপনও বিবেচনা করুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। তবে দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়তে থাকলে শুধু স্ট্রেসের কারণে হচ্ছে, তা ধরে নেওয়া উচিত নয়। শারীরিক ও মানসিক যত্নে যা যা করা উচিত-

  • নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস করুন

  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে পারেন

  • পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খান

  • দ্রুত ওজন কমানোর ডায়েট এড়িয়ে চলুন

  • দীর্ঘস্থায়ী চুল পড়াকে অবহেলা করবেন না

হরমোনের পরিবর্তন

নারীদের জীবনের বিভিন্ন সময়ে হরমোনের পরিবর্তন হতে পারে। এ কারণে কিছু নারীর চুল পাতলা হওয়া বা বেশি ঝরার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বংশগত নারীদের চুল পড়ার ক্ষেত্রে হরমোনের ভূমিকা থাকতে পারে। এ ধরনের চুল পড়ায় মাথার মাঝের সিঁথি ধীরে ধীরে চওড়া হতে পারে এবং মাথার ওপরের অংশ পাতলা দেখা যেতে পারে।

কিছু নারীর ক্ষেত্রে PCOS-এর মতো হরমোন সম্পর্কিত সমস্যার সাথেও মাথার চুল পাতলা হওয়া দেখা যেতে পারে। যদি চুল পড়ার পাশাপাশি মাসিকের অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্রণ বা শরীরে অতিরিক্ত লোমের মতো অন্যান্য পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলা ভালো। কারণ চুল পড়ার সাথে থাকা অন্যান্য লক্ষণগুলো চিকিৎসকের কাছে কারণ নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। হরমোনজনিত সমস্যা হলে যা করনীয়-

  • নিজের ইচ্ছায় হরমোনের ওষুধ খাবেন না

  • মাসিকের পরিবর্তন থাকলে চিকিৎসককে জানান

  • হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে গেলে কারণ খুঁজুন

  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করুন

  • বংশগত চুল পাতলা হওয়ার ইতিহাস থাকলে তা জানান

সন্তান জন্মের পর চুল পড়লে করনীয়

সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক মাস পর অনেক নারীর চুল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঝরতে পারে। এ সময় চুলের গোছা হাতে বা চিরুনিতে বেশি দেখা যাওয়ায় অনেক মা ভয় পেয়ে যান। কিন্তু প্রসবের পরের হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে এমন সাময়িক চুল ঝরা হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে সময়ের সাথে তা কমে যায়।

আরো পড়ুনঃ ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন আবেদন করার নিয়ম

এ সময় মায়ের নিজের খাবার, বিশ্রাম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে চুল পড়া অত্যন্ত বেশি হলে, মাথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে, দীর্ঘদিনেও উন্নতি না হলে বা অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রসবের পর চুল পড়ার পাশাপাশি অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

চুল পড়া বন্ধ করতে মিনোক্সিডিল কার্যকারিতা

নারীদের নির্দিষ্ট ধরনের বংশগত চুল পড়ার ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিল একটি প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমেরিকান Academy of Dermatology এটিকে নারীদের বংশগত চুল পড়ার জন্য বহুল সুপারিশকৃত চিকিৎসাগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছে। তবে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয় এবং চুল পড়ার কারণ নিশ্চিত না করে নিজের ইচ্ছায় ব্যবহার শুরু করা ঠিক নয়।

মিনোক্সিডিল ব্যবহার করলে ফল দেখতে সময় লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শুরু করার প্রথম কয়েক সপ্তাহে সাময়িকভাবে চুল পড়া কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। মাথার ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা, চুলকানি বা লালভাবও হতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মিনোক্সিডিল এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। মিনোক্সিডিল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-

  • সব ধরনের চুল পড়ায় এটি কাজ করে না

  • ফল পেতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে

  • নিয়মিত ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে

  • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে

  • গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়ানো উচিত

  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা নিরাপদ

অতিরিক্ত চুল পড়ার ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখানো

প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও চুল পড়ার ধরন পরিবর্তন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যেমন মাথার মাঝের সিঁথি ক্রমশ চওড়া হয়ে যাওয়া, মাথায় নির্দিষ্ট ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া, হঠাৎ প্রচুর চুল ঝরা কিংবা ভ্রু-চোখের পাপড়িসহ শরীরের অন্যান্য অংশের লোম পড়ে যাওয়া, এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চুল পড়ার কারণ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই আরও চুল পড়া কমানো বা উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চুল ও মাথার ত্বক পরীক্ষা করে চুল পড়ার ধরন বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন, বিশেষ করে যদি কোনো রোগ, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের সমস্যা বা সংক্রমণের সন্দেহ থাকে। তাই দীর্ঘদিনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে শুধু বিউটি প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

চুল পড়া কমাতে ডেলি রুটিন

চুল পড়া কমানোর জন্য কোনো একটি জাদুকরী উপায় নেই। বরং সঠিক কারণ শনাক্ত করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, কোমলভাবে চুলের যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়া এই কয়েকটি বিষয় একসাথে অনুসরণ করাই বেশি কার্যকর। বিশেষ করে চুল পড়ার কারণ যদি কোনো রোগ বা বংশগত সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ সমাধান নাও হতে পারে।

চুলের যত্নের ক্ষেত্রে নিয়মিত রুটিন মানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আজ একটি তেল, কাল একটি শ্যাম্পু এবং পরদিন অন্য কোনো ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করলে ফল পাওয়া কঠিন। চুলের ধরন বুঝে সহজ একটি রুটিন তৈরি করুন এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এড়িয়ে চলুন। চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সমস্যাটি লুকিয়ে না রেখে প্রয়োজন হলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

উপসংহারঃ মেয়েদের চুল পড়া ও ঝরা যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

মেয়েদের চুল পড়া ও ঝরে যাওয়া অনেক সময় সাময়িক সমস্যা হলেও কখনো এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন বা বংশগত চুল পড়ার লক্ষণ হতে পারে। তাই চুল পড়া বন্ধ করার জন্য প্রথম কাজ হলো সমস্যাটির কারণ বোঝা। পর্যাপ্ত পুষ্টি, কোমল চুলের যত্ন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর হেয়ারস্টাইল বা অতিরিক্ত হিট এড়ানো চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চুল পড়ছে মানেই চুল আর ফিরে আসবে না, এমন নয়। কিছু ধরনের চুল পড়া নিজে থেকেই কমে যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে চুল পড়া কমানো বা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসার ফলাফল নির্ভর করে চুল পড়ার প্রকৃত কারণের ওপর। তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সপ্নপূরণ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url