প্রতিদিন সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যায়ামের উপকারিতা
প্রতিদিন সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যায়াম করার উপকারিতা হিসেবে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অনেকেই অনেক ধরনের ব্যায়াম করে থাকেন। ব্যায়াম করার জন্য কেউ বেছে নেই হাটা ও দৌড়ানো, অনেকেই সাঁতার কাটেন আবার কেউবা যান জিমে।
তাই প্রতিদিন ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমরা শরীরের সুস্বাস্থ্য ও ফিট থাকার চেষ্টা করি। তাই এই কন্টেন্টের মাধ্যমে ব্যায়ামের উপকারিতা বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো।
পোস্টের সূচিপত্রঃ প্রতিদিন সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যায়ামের উপকারিতা
- শারীরিক গঠন ও পেশি মজবুতকরণ
- হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ও রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি
- মানসিক সুস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও চাপ থেকে মুক্তি
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
- শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ
- কর্ম ক্ষমতা ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি
- অনিদ্রা দূর করা ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
- হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ও মেটাবলিজম বৃদ্ধি
- বার্ধ্যক প্রতিরোধ ও দীর্ঘায়ু লাভ
- শেষ মন্তব্যঃ প্রতিদিন সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যায়ামের উপকারিতা
শারীরিক গঠন ও পেশি মজবুত করণ
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম আমাদের শরীরের কাঠামোকে সুন্দর ও গঠিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আমরা যখন প্রতিদিন এক্সারসাইজ বা হালকা ওজনের ব্যায়াম করি তখন আমাদের শরীরের অলস পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে পেশির ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং শরীর অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ঝুলে করা থেকে রক্ষা পায়।
পেশি মজবুত হওয়ার পাশাপাশি ব্যায়াম আমাদের শরীরের হাড়ের জয়েন্টগুলোকে সচল রাখে। নিয়মিত স্ট্রেচিং এবং ওয়েট বেয়ারিং ব্যায়াম করলে ক্যালসিয়াম শোষণ ক্ষমতা বাড়ে। যা অস্টিওপরোসিসের মতো হাড়ের ক্ষয়রোধ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফলে বয়স বাড়লেও সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বজায় থাকে এমনকি মেরুদন্ডও শক্ত থাকে।
হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ও রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি
হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে যেসব ব্যায়াম করতে হয়। যেমন দৌড়ানো, হাটা, সাঁতার কাটা ও সাইকেল চালানো অত্যন্ত কার্যকরী। প্রতিদিন ব্যায়াম করলে আমাদের হৃদপিন্ডের পাম্প করার ক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং রক্ত পৌঁছাতে পারে।
রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকার কারণে ধমনীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে পারে না এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে এটি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায় এবং হার্ট অ্যাটাক এর মত মারাত্মক হৃদরোগের সম্ভাবনা থেকে আমাদের শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।
আরো পড়ুনঃ Google Discover থেকে ট্রাফিক হারানোর পর পুনরুদ্ধারের কৌশল
মানসিক সুস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও চাপ থেকে মুক্তি
ব্যায়ামের উপকারিতা কেবলমাত্র শরীরে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং মনের ভাব উন্নত করতে সমানভাবে কাজ করে। আমরা যখন পরিশ্রম করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোর্ফিন, ডোপামিন এবং সেরোটোনিন নামক কিছু হরমোন হয় নিঃসৃত হয়। এই হরমোন গুলোকে বিজ্ঞানের ভাষায় ফিল গুড হরমোন বলা হয়, যা সাময়িকভাবে আমাদের মন ভালো করে দেয়।
বর্তমান জীবনে কাজের প্রেসারে মানসিক চাপ, বিষন্নতা সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করলে শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে যায়। হলে মন শান্ত হয় মানসিক অশ্লীলতা দূর হয় এবং যেকোনো কাজের উপর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বেড়ে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার অন্যতম উপায় হলো প্রতিদিন ব্যায়াম করা। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের ফলে আমাদের শরীরের শ্বেত রক্তকণিকা এবং এন্টিবডি গুলো অনেক বেশি দ্রুত রক্তে চলাচল করতে পারে। এর ফলে শরীরের ভেতর কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দ্রুত সনাক্ত করে ধ্বংস করে দিতে পারে।
এছাড়াও ব্যায়াম করার সময় শরীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে কিছুটা বৃদ্ধি পায়, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত প্রতিদিন হাঁটেন তাদের সাধারণ সর্দি, কাশি, জ্বর এবং অন্যান্য ছোয়াচে রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অলস মানুষের তুলনায় কম হয়।
শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ
আমরা সারাদিনে খাবারের মাধ্যমে যে ক্যালরি গ্রহণ করি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হয়। আর শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া একটি বড় সমস্যা। যা নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমেই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম করলে শরীরের সেই অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলে।
শুধু ব্যায়াম করার সময়ই নয়, নিয়মিত কসরত করলে ব্যায়াম শেষ করার পরেও বার্ন হওয়ার প্রক্রিয়া সচল থাকে। এটি শরীরের মেদ বা চর্বি কমিয়ে পেশির অনুপাত বাড়ায়, যার ফলে শরীর আকর্ষণীয় ও ফিট দেখায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক রোগগুলো শরীরকে সহজে আক্রমণ করতে পারে না।
কর্মক্ষমতা ও শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি
আমরা অনেকেই মনে করি ব্যায়াম করলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু বাস্তবে এটি শরীরের শক্তি বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে শরীরের ফুসফুসের অক্সিজেন গ্রহণ ও ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাই। ফুসফুস এবং হৃদযন্ত্র যখন একসাথে দক্ষ ভাবে কাজ করে তখন সামান্য পরিশ্রমে শরীর ক্লান্ত হয় না।
প্রতিদিন সকালে ব্যায়াম করার অভ্যাস সারাদিনের কাজের জন্য শরীরকে এক ধরনের প্রাণশক্তি এনে দেয়। অলসতা কেটে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন কাজের গতি বাড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ সহকারে যেকোনো কঠিন কাজ সম্পন্ন করা সহজ হয়।
অনিদ্রা দূর করা ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
রাতে ভালো ঘুম না হওয়া দূর করতে প্রতিদিনের ব্যায়াম একটি জাদুর মত কাজ করে। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে যখন শরীর আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয় তখন মস্তিষ্ক গভীর ঘুমের সংকেত পাই।
তবে মনে রাখতে হবে যে, ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে খুব ভারী ব্যায়াম করা উচিত নয়। প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে ব্যায়াম করলে রাতে বিছানায় যাওয়ার সাথে সাথেই শরীর শিথিল হয়ে আসে এবং কোন রকম ওষুধ ছাড়াই গভীর ও আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত হয় যা পরদিন সকালে শরীরকে সতেজ রাখে।
হজম প্রক্রিয়ার ও মেটাবলিজম বুদ্ধি
সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের পেটের স্বাস্থ্যের ওপর এবং ব্যায়াম আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সজল রাখতে সাহায্য করে। শরীরের নড়াচড়ার ফলে আমাদের অন্ত্রের পেশীগুলো সংকোচন ও প্রসারন স্বাভাবিক হয়। যা খাবারকে সহজে হজম করতে এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দূর হয়।
আরো পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১১ ইনস্টল করার সহজ পদ্ধতি
পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হারকে উন্নত করে। উচ্চ মেটাবলিজমের কারণে শরীরে খাবার থেকে পুষ্টি উৎপাদন গুলো দ্রুত শোষণ করে নিতে পারে এবং তা শক্তিতে পরিণত করতে পারে। সাধারণত এটি গ্যাসের সমস্যা, বুক জ্বালাপোড়া এবং লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
বার্ধক্য প্রতিরোধ ও দীর্ঘ আয়ু লাভ
যারা নিয়মিত ভাবে ব্যায়াম করেন, তাদের গড় আয়ু অলস ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক বেশি হয়, সাধারণভাবে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে। ব্যায়াম আমাদের কোষের ভেতরে থাকা ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তকে সুরক্ষিত রাখে যা বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে দেয়। ফলে চামড়া কুচকে যাওয়া বা বলিলেখা পড়া কমে যায়।
বার্ধক্যকের সাধারণ লক্ষণ যেমন স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, ডিমেনশেয়ার ঝুঁকি নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। এটি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে, যার ফলে মানুষের স্থিতিশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়িয়ে দেয়।
শেষ মন্তব্যঃ প্রতিদিন সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যায়ামের উপকারিতা
প্রতিদিন সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যায়ামের উপকারিতা পেতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী। প্রথম দিন খুব ভারী এবং কঠিন ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়। শুরুতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট বা দ্রুত হাঁটার মাধ্যমে অভ্যাস করে তুলতে হবে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় ও গতি বাড়াতে হবে।
ব্যায়াম শুরুর আগে শরীরকে প্রস্তুত করার জন্য ৫ থেকে ১০ মিনিট এবং শেষ করার পর শরীরকে শান্ত করার জন্য কুল ডাউন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা পেশির ইনজুরি রোধ করে। আর আপনার যদি আগে থেকে কোন ক্রনিক রোগ, যেমন- পিঠের ব্যথা ও হৃদরোগ থাকে তবে কোন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়ামের ধরন যেনে ব্যায়াম করা নিরাপদ।

সপ্নপূরণ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়
comment url