Google Adsense অনুমোদন পাওয়ার কার্যকরী উপায়

Google Adsense অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে  ব্লগার ও ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের কাছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। শুধু ওয়েবসাইট তৈরি করলে গুগল এডসেন্স পাওয়া যায় না, এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট  নিয়ম মানতে হয়। 

গুগল-এডসেন্স-অনুমোদন-পাওয়া

তথ্য ভিত্তিক কনটেন্ট, ওয়েবসাইটের ডিজাইন এবং গুগলের নীতিমালা মেনে চললে এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। এই কনটেন্টে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার প্রধান প্রধান কার্যকরী উপায়গুলো খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। যেন পাঠকেরা কনটেন্টটি পড়ে খুব সহজেই বুঝতে পারে। 

পোস্টের সূচিপত্রঃ Google Adsense অনুমোদন পাওয়ার কার্যকরী উপায়

মৌলিক ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা 

Google Adsense অনুমোদন পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সম্পূর্ণ মৌলিক ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা। যদি অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে কোন তথ্য কপি করলে বা AI দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করলে গুগল সহজেই সনাক্ত করতে পারে। এতে আপনার ওয়েবসাইটকে গুগল কোন এক সময় ব্লক করে দিতে পারে। 

আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিটি কনটেন্ট এর নির্দিষ্ট কোন সমস্যা থাকলে সেটার সমাধান করুন, তথ্য ও সহজ ভাষা ব্যবহার করে কন্টেন্ট তৈরি করুন। নিয়মিত নতুন কনটেন্ট প্রকাশ করলে গুগল বুঝতে পারে যে আপনার ওয়েবসাইট সক্রিয় এবং ব্যবহারকারীদের জন্য সঠিক তথ্য প্রকাশ করে। 

অনেক  তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট প্রকাশ করা 

গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভালো মানের কন্টেন্ট থাকা প্রয়োজন। সর্বনিম্ন ২০ থেকে ৩০ টি তথ্যসমূহ ও বিস্তারিত কনটেন্ট পোস্ট থাকলে আবেদনের জন্য আপনি প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে কনটেন্ট এর ক্ষেত্রে কোন নির্ধারিত সংখ্যা গুগল উল্লেখ করে না। 

আপনাকে প্রতিটি কনটেন্ট এর আকার, তথ্য ভিত্তিক এবং পাঠকের উপকারিতার কথা লক্ষ্য রেখে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় পোস্ট এর পরিবর্তে বিস্তারিত ও প্রয়োজনীয় তথ্য ভিত্তিক কন্টেন্ট লেখা প্রকাশ করলে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়া যায়। 

ওয়েবসাইটের ডিজাইন সহজ ও ব্যবহার যোগ্য করা

আপনার ওয়েবসাইট পরিষ্কার, দ্রুত এবং মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন গুগল এডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত এনিমেশন, অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন, জটিল নেভিগেশন ব্যবহারকারীদের মনোভাব নষ্ট করতে পারে। তাই আপনার ওয়েবসাইটে অপ্রয়োজনে কোন তথ্য বা এড যোগ করবেন না। 

আরো পড়ুনঃ Google Discover থেকে ট্রাফিক হারানোর পর পুনরুদ্ধারের কৌশল

সুতরাং আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন ব্যবহারযোগ্য, সুন্দর ও সহজ করে রাখুন। এতে করে মেনু, ক্যাটাগরি, সার্চ অপশন এবং কনটেন্টের ধরণ এমনভাবে সাজানো থাকে যাতে কোন ভিজিটর খুব সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাই। সুন্দর, সহজ ও তথ্যবহুল কনটেন্ট google এর কাছেও ভালো ধারণা তৈরি করে। 

ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় পেজ রাখা

প্রতিটি ওয়েবসাইটে About Us, Contact Us, Privacy Policy এবং Terms & Conditions পেজ থাকা উচিত। এ সমস্ত পেজ ওয়েবসাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয় এবং গুগলের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে। Privacy Policy পেজে ব্যবহারকারীর তথ্য কিভাবে ব্যবহার করা হয় তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করুন। 

এর পাশাপাশি যোগাযোগের জন্য একটি ইমেইল দুটো করলে ওয়েবসাইট আরো সক্রিয় দেখায়। সুতরাং আপনি আপনার ওয়েবসাইটটিকে পরিস্কার রাখার সাথে সাথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়ে রাখবেন। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে খুব তাড়াতাড়ি গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়। 

ওয়েবসাইটের গতি উন্নত করা

ধীর গতির ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের বিরক্ত করে এবং গুগল এডসেন্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই খুব দ্রুত লোড হওয়া ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীরা বেশি সময় অবস্থান করেন। 

অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন কম ব্যবহার করতে হবে, সকল ছবি অপটিমাইজ করতে হবে এবং ভালো মানের হোস্টিং ব্যবহার করতে হবে তাহলে ওয়েবসাইটের গতি ভালো হলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও সার্চ র‍্যানকিং দুটোই পাওয়া যায়। 

মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করা 

বর্তমান সময় অধিকাংশ ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় কোন তথ্য পাওয়ার জন্য মোবাইলে সার্চ করে। তাই আপনার ওয়েবসাইটটি সব ধরনের স্কিনে সুন্দরভাবে যেন দেখায় এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

এক্ষেত্রে আপনি যদি রেসপন্সিভ থিম ব্যবহার করেন এবং লেখা, ছবি ও মেনু ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে তাহলে ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট এডসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক হিসেবে গণ্য করে। তাই আপনার ওয়েবসাইট সকল ডিভাইসে শো করলে গুগল এডসেন্স তাড়াতাড়ি পাওয়া সম্ভব হয়। 

কপিরাইট থেকে বিরত থাকা 

ইন্টারনেট থেকে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য তথ্যের কপিরাইট করে নিজের ওয়েবসাইটে দিলে অনেক সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর google এমন ওয়েবসাইটকে খুব কম বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। এমনকি এর কারণে Adsense আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। 

তাই নিজের তৈরি ছবি ব্যবহার করে অথবা কপিরাইট মুক্ত ছবি সংগ্রহ করে ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ছবির নিয়ম মেনে ব্যবহার করুন এবং সবসময় বৈধ কন্টেন্ট প্রকাশের জন্য চেষ্টা করুন। 

গুগলের নীতিমালা মেনে কন্টেনট লেখা 

গুগল এডসেন্সের Program Policies ভালোভাবে পড়ে অথবা বুঝে কনটেন্ট লেখা উচিত। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট, ঘৃণামূলক বক্তব্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য এবং কাউকে নিয়ে অসামাজিক কিছু তথ্য প্রকাশ করলে গুগল এডসেন্স বাতিল হতে পারে। 

এক্ষেত্রে শিক্ষামূলক, তথ্যবহুল এবং নিরাপদ কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী একটি বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইট গড়ে তুলতে পারেন। এমনকি ওয়েবসাইটের নীতিমালা অনুসরণ করলে ভবিষ্যতেও এডসেন্স একাউন্ট নিরাপদ থাকে। 

Google Discover থেকে ট্রাফিক বৃদ্ধি 

যদিও গুগল ডিসকভার থেকে ট্রাফিক বাড়ানোর ক্ষেত্রে এডসেন্স অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিজিটরের প্রয়োজন হয় না। তবুও গুগল ডিসকভার থেকে ট্রাফিক থাকা ওয়েবসাইটের মান বাড়িয়ে দেয়। SEO ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করলে ধীরে ধীরে সার্চ ইঞ্জিল থেকে ভিজিটর আসতে শুরু করে।

আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে ইংরেজি শেখার সহজ গাইড লাইন

এতে আপনার ওয়েবসাইটের মান বেড়ে যায়। যদি কখনও আপনার ওয়েবসাইটের কোন পোস্ট গুগল র‍্যাংকে যাচ্ছে না তাহলে আপনি পূনরায় ওই কনটেন্টটি ড্রাফ করে পোস্ট করবেন। মনে রাখবেন, পুরাতন পোস্টগুলো এইভাবে পূনরায় পোস্ট করতে হয়। তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে গুগল ডিসকভার থেকে ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়। 

ডোমেনের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করা 

ডোমেইন দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাখার জন্য আপনাকে নিয়মিত কন্টেন্ট প্রকাশ করতে হবে এবং ওয়েবসাইটে প্রযুক্তিগত সমস্যা না থাকলে বিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। একটি সংগঠিত ওয়েবসাইট সব সময় ব্যবহারকারীর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সাব ডোমেইনের পরিবর্তে আপনি যদি নিজস্ব কাস্টম ডোমেইন ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট আরো কার্যকরী হয়ে উঠবে। এতে করে ওয়েবসাইটের ওপর ব্যবহারকারীদের আস্থাও বেড়ে যাবে। 

আবেদনের পূর্বে ওয়েবসাইটটি পুনরায় দেখা

আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটের প্রতিটি পেজ, লিংক এবং ছবি ঠিকভাবে কাজ করতে কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে। ভুল লিংক, 404 Error বা অসম্পূর্ণ  পেজ থাকলে সেগুলো আগে ঠিক করে নিতে হবে। 

কনটেন্টের বানান এবং তথ্যগত কোন ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। ওয়েবসাইট গুগলের কাছে ভালো মানের হলে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। 

উপসংহারঃ Google Adsence অনুমোদন পাওয়ার কার্যকরী উপায় 

গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমবার আবেদন করে সবাই এডসেন্স অনুমোদন পাই না। অনেক সময় কিছু ভুলত্রুটির কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই হতাশ না হয়ে গুগল যে কারণ উল্লেখ করে তা বিশ্লেষণ করে ওয়েবসাইটে পরিবর্তন আনুন। 

ভুলগুলো ঠিক করে নতুন কনটেন্ট যোগ করুন, ওয়েবসাইট আরো সমৃদ্ধ করুন এবং পূনরায় আবেদন করুন। ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত কাজ করলে গুগল এডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সপ্নপূরণ আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন, প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়

comment url